ভোটচুরির অভিযোগে রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ মমতা-রাহুল, এবার সুপ্রিম কোর্টে বিরোধীরা।

 Delhi News : রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে ভোটচুরির অভিযোগে স্মারকলিপি জমা দিল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। শুক্রবার রাতে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করে। সেই দলে ছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে-সহ বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা। বৈঠক শেষে বিরোধী নেতারা জানান, রাষ্ট্রপতি তাঁদের বক্তব্য মন দিয়ে শুনেছেন এবং অভিযোগের সমর্থনে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ জমা দিতে বলেছেন। তবে এই বৈঠক নিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার করতে চাইছে বিরোধী জোট। সেই লক্ষ্যেই রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার রাত ৮টায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করার সময় নির্ধারিত ছিল ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের। সেই অনুযায়ী তাঁরা রাষ্ট্রপতি ভবনে পৌঁছন। রাত ৯টার কিছু আগে বৈঠক শেষে বাইরে বেরিয়ে আসেন প্রতিনিধিরা। তাঁদের দাবি, প্রায় এক ঘণ্টার এই বৈঠক ইতিবাচক হয়েছে।

ভোটচুরির অভিযোগে রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ মমতা-রাহুল, এবার সুপ্রিম কোর্টে বিরোধীরা।

তবে রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রতিনিধিদল পৌঁছলেও বিরোধী সাংসদদের একটি মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। রাহুল গান্ধী ও অন্য নেতারা যখন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে ব্যস্ত, তখন বাকি বিরোধী সাংসদেরা বিজয় চকে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন এবং তাঁর মনোভাব ইতিবাচক বলে মনে হয়েছে। মমতার কথায়, রাষ্ট্রপতি বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন। তবে অভিযোগের সমর্থনে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ জমা দিতে হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

মমতা আরও বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে গণতন্ত্র রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ করার আবেদনও জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি বিরোধীদের অভিযোগের সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্যপ্রমাণ জমা দিতে বলেছেন। সেই নির্দেশ মেনেই তাঁরা প্রমাণ সংগ্রহ করে জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও বৈঠক নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তিনি এই সাক্ষাৎকে অভাবনীয় বলে বর্ণনা করেন। রাহুলের দাবি, তাঁদের স্মারকলিপিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

রাহুলের বক্তব্য, রাষ্ট্রপতি তাঁদের কথা মন দিয়ে শুনেছেন এবং তাঁদের অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেননি। তবে অভিযোগের সমর্থনে তথ্যপ্রমাণ জমা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে বৈঠকে। কংগ্রেস নেতার দাবি, তাঁরা যে বিষয়গুলি তুলে ধরেছেন, সেগুলির গুরুত্ব রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে।

শুধু রাষ্ট্রপতির কাছেই নয়, এবার সুপ্রিম কোর্টের কাছেও বিষয়টি নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে বিরোধী জোট। রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, সোমবার তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করবেন এবং তাঁর হাতেও স্মারকলিপি তুলে দেবেন। এর মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁদের অভিযোগ আরও বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরতে চাইছেন বিরোধী নেতারা।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করা ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলে রাহুল গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি, সিপিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা, সমাজবাদী পার্টির নেতা রাজীব রায়, এনসিপি (এসপি)-র নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে, জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা, আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা এবং ভিসিকে নেতা থোল তিরুমাভালাম।

এদিকে, ভোটচুরির অভিযোগে আন্দোলনের পরবর্তী রূপরেখা ঠিক করতে শুক্রবার বিকেলে সংসদের সেন্ট্রাল হলে বৈঠকে বসেন বিরোধী সাংসদেরা। সেখানে আন্দোলন কীভাবে আরও জোরদার করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয় বলে সূত্রের খবর। ওই বৈঠকে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভে সরকার চাপে পড়েছে। তাঁর বক্তব্য, জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবির মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর পিছনে আরও বড় সমস্যা রয়েছে।

বিরোধী সাংসদদের উদ্দেশে রাহুলের বার্তা ছিল, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব পাওয়া জরুরি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মঙ্গলবার বিরোধী সাংসদেরা নির্বাচন সদন অভিযান করেন। বুধবার ও বৃহস্পতিবারও দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলে। বুধবারের আন্দোলনের কেন্দ্র ছিল যন্তর মন্তর।

শনিবার যন্তর মন্তরে বিরোধী জোটের একটি বড় সমাবেশের কর্মসূচিও রয়েছে। পাশাপাশি, রাষ্ট্রপতির কাছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের নথি তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল আগেই।

সব মিলিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের পর বিরোধী নেতারা আশাবাদী হলেও, তাঁদের অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে প্রস্তাবিত সাক্ষাৎ এবং যন্তর মন্তরের সমাবেশ ঘিরেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
×
↑