দিল্লিতে যন্তর মন্তর প্রতিবাদ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, ৪০ হাজারের বেশি নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন।

 দিল্লিতে সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। যন্তর মন্তর ও তার আশপাশের এলাকায় কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ। শনিবারের জমায়েত ঘিরে রাজধানীতে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি, কয়েকটি এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা, মেট্রো স্টেশন বন্ধ করা এবং ট্রেন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের খবরও সামনে এসেছে।

Delhi News : ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) শনিবার ‘যন্তর মন্তর ২.০’ নামে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া প্রত্যাহার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ সংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের দাবিতে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু তরুণ-তরুণী এই আন্দোলনে যোগ দিতে দিল্লিতে আসছেন।

বড় জমায়েতের আশঙ্কায় শুক্রবার রাত থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যন্তর মন্তর সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পুলিশের তরফে মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট এলাকাগুলিতে বড় জমায়েত এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

দিল্লিতে যন্তর মন্তর প্রতিবাদ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা

দিল্লির মেট্রো পরিষেবাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমে ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও প্রস্থান বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের পর দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন সেই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৫৭টির পরিবর্তে ৪৫টি স্টেশন শনিবার বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে।

এদিকে, জনপথ ও কর্তব্যপথের সংযোগস্থল থেকে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকার কথা। একই সঙ্গে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী শনিবার সকাল ৬টা থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ রাখা হতে পারে। প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষকে রাস্তায় বেরোনো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তার দায়িত্বে দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদেরও মোতায়েন করা হচ্ছে। সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশের ১৫ হাজারের বেশি কর্মী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর অন্তত ২৬ হাজার জওয়ান দায়িত্বে থাকবেন। নয়াদিল্লিকে ২০টি জ়োনে ভাগ করে নিরাপত্তার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিটি জ়োনের দায়িত্বে থাকবেন ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার এক জন আধিকারিক।

আন্দোলনকারীদের সম্ভাব্য মিছিলের কথা মাথায় রেখে ৩৭টি জায়গা চিহ্নিত করে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রশিক্ষিত মহিলা পুলিশকর্মী ও জওয়ানদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশ থেকে পাঁচ হাজার নিরাপত্তাকর্মী দিল্লিতে মোতায়েন করার খবর প্রকাশিত হয়েছে।

শুধু সড়ক ও মেট্রো নয়, রেল পরিষেবাতেও প্রভাব পড়েছে। শনিবার ভোর ৪টে থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছনোর কথা ছিল, এমন একাধিক মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে যাঁদের ওই সময়ে ট্রেনে যাতায়াতের পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের জন্য পরিস্থিতি কিছুটা সমস্যার কারণ হতে পারে।

এ ছাড়া, দিল্লির বিভিন্ন হোটেল, গেস্ট হাউস, হস্টেল ও পেইং গেস্ট আবাসনে গিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে পুলিশ বলে খবর। ৮ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে বাইরে থেকে এসে কারা দিল্লিতে থাকছেন, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে একসঙ্গে থাকা তরুণ-তরুণীদের দলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সিজেপি এবং অন্যান্য আন্দোলনকারী সংগঠনের নেতারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েছেন। সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, তিনি দিল্লিতে পৌঁছনোর পর গ্রেফতার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন। তবে তাঁর অনুরোধ, তাঁকে আটক করা হলেও আন্দোলন যেন থেমে না যায়। শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি তুলে ধরার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে, যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। একদিকে নিজেদের দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রতিবাদকারীরা, অন্যদিকে সম্ভাব্য জমায়েত সামলাতে সতর্ক রয়েছে পুলিশ ও প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতে কর্মসূচি কতটা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে কতটা প্রভাব পড়ে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনটি আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। প্রকাশের আগে মেট্রো স্টেশন বন্ধ, ট্রেন বাতিল, ইন্টারনেট পরিষেবা এবং নিরাপত্তা মোতায়েন সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করে নেবেন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
×
↑