ধ্রুব রাঠীকে আটক করল পুলিশ! কেন আটক ইউটিউবার, জানুন বিস্তারিত।
Dhruv Rathee Detained News: দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ সকালে গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকে আটক করার খবর সামনে এসেছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার আগেই তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যায় পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজমাধ্যমেও শুরু হয়েছে আলোচনা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন ধ্রুব রাঠী। শনিবার সকালে তিনি যন্তর মন্তরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই সময় গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬ এলাকার কেন্দ্রীয় বিহার সোসাইটিতে তাঁর বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁকে যন্তর মন্তরে না যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয় বলে সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় ধ্রুব রাঠীর পক্ষ থেকে কী বক্তব্য জানানো হয়েছে, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার রাত থেকে রাজধানীর ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, দিল্লিগামী একাধিক মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিলের খবরও সামনে এসেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী। জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করতে মাইকিংও করা হচ্ছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপের জেরে সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ধ্রুব রাঠী ছাড়াও শনিবার আরও কয়েকজন জনপ্রিয় বিষয়স্রষ্টাকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ধরপাকড়ের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
আটকের সংখ্যা নিয়েও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে প্রায় ১৫০ জনকে আটক করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে আটকের সংখ্যা এক হাজারের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে মোট কতজনকে আটক করা হয়েছে, তা নিয়ে তথ্যের পার্থক্য রয়েছে।
এ ছাড়া, দিল্লির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিষেধাজ্ঞা জারি এবং জনপথ-কর্তব্যপথ সংলগ্ন এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার খবরও সামনে এসেছে।
সিজেপির ডাকা এই প্রতিবাদ কর্মসূচির অন্যতম দাবি হল দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। পাশাপাশি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া প্রত্যাহার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ সংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের দাবিও তুলেছে সংগঠনটি।
এই দাবিগুলিকে সামনে রেখেই শনিবার ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। তবে এই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি পুলিশ বলে সংবাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে শনিবার সকালে মুম্বই থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, দিল্লিতে পৌঁছনোর পর তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, তাঁকে আটক করা হলেও আন্দোলন থামানো উচিত নয়। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মাধ্যমেই নিজেদের দাবি তুলে ধরতে চান তাঁরা।
অন্যদিকে, ধ্রুব রাঠীকে আটকের ঘটনায় সিজেপি সমাজমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, সরকারের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা তরুণদের আটক করে তাঁদের কণ্ঠস্বর থামানো যায় না।
দিল্লিতে নিরাপত্তা বৃদ্ধি, মেট্রো পরিষেবা বন্ধ রাখা এবং প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে ধরপাকড়ের খবর সামনে আসায় পরিস্থিতি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। একদিকে নিজেদের দাবি নিয়ে রাস্তায় নামার কথা বলছে প্রতিবাদী সংগঠনটি, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কড়া পদক্ষেপ করছে প্রশাসন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পরবর্তী সময়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রশাসন কী জানায়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
