SIR বিরোধী বিক্ষোভে INDI জোটের পাশে TVK, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবি।
Election commissioner : গণতন্ত্র রক্ষা এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে বড়সড় বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শামিল হল বিরোধী ইন্ডি (INDI) জোট। এই কর্মসূচি থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন বিরোধী নেতারা। এই বিক্ষোভের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক দল টিভিকে (TVK)-র অংশগ্রহণ। বিরোধী জোটে যোগ দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এই প্রথম জোটের কর্মসূচিতে সামিল হল সি. জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন দলটি।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ইন্ডি জোটের বিভিন্ন দলের বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক অংশ নেন। সেখানে একের পর এক নেতা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে নিজেদের আপত্তির কথা তুলে ধরেন। তাঁদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার ফলে বহু ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে নির্বাচনী প্রক্রিয়াতেও।
এদিকে, ভিসিকে (VCK) প্রধান থোল থিরুমাভালাভান ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে ডিএমকে (DMK)-র পরাজয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, এই পরাজয় প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন নয়; বরং ভোটার তালিকা সংশোধন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। যদিও তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই উঠে এসেছে।
এর আগে টিভিকে-র পক্ষ থেকেও ভোটার তালিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছিল। দলটির দাবি, ডিএমকে-র অভিযোগ অনুযায়ী, ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৭৪ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল। টিভিকে-র বক্তব্য, এই নামগুলি বাদ না গেলে ডিএমকে ১০৮টি আসনের পরিবর্তে ১৬০টিরও বেশি আসন পেতে পারত। তবে এই দাবির সত্যতা নিয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য এখানে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, কংগ্রেস এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নয়। দলটির বক্তব্য, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার কারণেই ডিএমকে-র পরাজয় হয়েছে—এমন দাবি সাধারণ মানুষ সহজে মেনে নেবেন না। কংগ্রেস আরও জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে রাজ্যে ভোটারদের নাম বাদ পড়া রুখতে তারা উদ্যোগ নিয়েছিল।
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন সমীকরণও সামনে এসেছে। ডিএমকে-র প্রাক্-নির্বাচনী জোটে থাকা কংগ্রেস ও ভিসিকে পরবর্তীতে টিভিকে সরকারের সঙ্গে যুক্ত হয়। সি. জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন শাসক দলের সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পর এই বিক্ষোভে টিভিকে-র অংশগ্রহণ বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে।
বিক্ষোভ মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে টিভিকে নেতা তথা স্কুলশিক্ষামন্ত্রী এ. রাজমোহন SIR প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তাঁর মতে, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই পদ্ধতি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি দাবি করেন, এই প্রক্রিয়া সংবিধানপ্রণেতা বি. আর. আম্বেদকরের প্রতিষ্ঠিত সাম্য ও সমানাধিকারের নীতির পরিপন্থী হতে পারে।
রাজমোহন আরও জানান, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে টিভিকে। বিহারের মতো রাজ্যে SIR প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে দলটি। তাদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে কোনও যোগ্য ভোটারের গণতান্ত্রিক অধিকার যেন ক্ষুণ্ণ না হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, ভিসিকে প্রধান থোল থিরুমাভালাভান ডিএমকে-র নির্বাচনী পরাজয়ের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, SIR প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৯৭ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং এর ফলে সংখ্যালঘু ও তফসিলি জাতিভুক্ত সম্প্রদায়ের মানুষ বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার প্রভাবেই কোলাথুর কেন্দ্রে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিন পরাজিত হন এবং ডিএমকে-র নির্বাচনী ফল খারাপ হয়।
উল্লেখ্য, ২০১১ সাল থেকে কোলাথুর কেন্দ্র থেকে পরপর তিনবার জয়ী হয়েছিলেন স্ট্যালিন। থিরুমাভালাভানের অভিযোগ, নির্দিষ্ট কিছু ভোটারের নাম পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া এবং নির্বাচনী অনিয়মের কারণেই ডিএমকে-কে পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, তৎকালীন শাসক দলের নির্বাচনী সম্ভাবনা দুর্বল করে দেওয়ার লক্ষ্যেই কিছু ভোটারকে বেছে বেছে নিশানা করা হয়েছিল।
তবে ভোটার তালিকা সংশোধন, নাম বাদ পড়া এবং নির্বাচনী ফলাফলের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য ও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন। আপাতত এই বিষয়গুলিকে ঘিরে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। বিরোধীদের দাবি, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের স্বার্থে জরুরি। অন্যদিকে, অভিযোগগুলির সত্যতা নির্ধারণে প্রমাণ ও নিরপেক্ষ তদন্তের গুরুত্বও রয়েছে।
