আয়ুষ্মান ভারত ও মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা নিয়ে নতুন নির্দেশিকা।
Ayushman Bharat News: আয়ুষ্মান ভারত ও মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার আওতায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে রোগী ও তাঁর পরিবারের যাতে অযথা হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই নতুন ব্যবস্থা চালু করতে চলেছে স্বাস্থ্য দফতর। সরকারি এবং বেসরকারি—দুই ধরনের হাসপাতালেই এবার থেকে একজন করে মেডিক্যাল কোঅর্ডিনেটর বা মেডকো রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আয়ুষ্মান ভারত: হাসপাতালে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর ছুটি পাওয়া এবং স্বাস্থ্যবিমার ক্লেম জমা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে সমন্বয় করবেন এই মেডিক্যাল কোঅর্ডিনেটর। হাসপাতাল এবং সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগাযোগের দায়িত্বও থাকবে তাঁর উপর।
অনেক সময় স্বাস্থ্যবিমার মাধ্যমে চিকিৎসা করাতে গিয়ে রোগী বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন কাগজপত্র, অনুমোদন কিংবা ক্লেম সংক্রান্ত বিষয়ে একাধিক জায়গায় যোগাযোগ করতে হয়। নতুন ব্যবস্থায় সেই দৌড়ঝাঁপ অনেকটাই কমবে বলে আশা করছে স্বাস্থ্য দফতর।
অর্থাৎ, কোনও রোগী আয়ুষ্মান ভারত বা মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমার আওতায় হাসপাতালে ভর্তি হলে, পুরো প্রক্রিয়াটি যাতে দ্রুত এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তা দেখার দায়িত্ব থাকবে মেডকোর। ভর্তি থেকে চিকিৎসা এবং শেষ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছুটি—প্রতিটি ধাপেই তিনি সমন্বয়ের কাজ করবেন।
আগে থেকে থাকা রোগেও মিলবে কভারেজ
আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা বা PM-JAY-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হল, আগে থেকেই থাকা রোগের ক্ষেত্রেও প্রথম দিন থেকেই কভারেজ পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের মতো প্রি-এক্সিস্টিং কন্ডিশনের জন্য আলাদা করে অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।
হাসপাতালে ভর্তির আগে সর্বোচ্চ তিন দিনের নির্দিষ্ট খরচ এবং হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার পর ১৫ দিনের নির্দিষ্ট খরচও এই স্বাস্থ্যবিমার আওতায় রয়েছে।
এই প্রকল্পের যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে Socio-Economic Caste Census (SECC) 2011-এর তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামীণ এলাকার নির্দিষ্ট ধরনের কাঁচা বাড়িতে বসবাসকারী পরিবার, ১৬ থেকে ৫৯ বছর বয়সি কোনও প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য নেই এমন পরিবার এবং নির্দিষ্ট তফসিলি জাতি ও উপজাতি পরিবারের মতো বিভিন্ন শ্রেণি এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারে।
আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরেও মিলছে প্রাথমিক পরিষেবা
দেশের বহু প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও উপকেন্দ্রকে আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরে রূপান্তর করা হয়েছে। সেখানে সাধারণ ওষুধ, প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, গর্ভবতী মহিলা ও শিশুদের প্রয়োজনীয় যত্নের পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো অসংক্রামক রোগের পরীক্ষার মতো পরিষেবাও বিনামূল্যে দেওয়া হয়।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীও সামাজিক মাধ্যমে আয়ুষ্মান প্রকল্পের প্রথম মাসের সাফল্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরেছিলেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম এক মাসেই হাজার হাজার পরিবার এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছে এবং ২৮ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের ১১০২ জনেরও বেশি রোগী ভিনরাজ্যের হাসপাতালে এই প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসার সুবিধা পেয়েছেন। একই সময়ে অন্য রাজ্যের ১৮৪৯ জন রোগীকেও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ যাতে অযথা সমস্যায় না পড়েন, সেই লক্ষ্যেই এবার হাসপাতালগুলিতে মেডিক্যাল কোঅর্ডিনেটর রাখার এই নতুন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য দফতর। রোগীর চিকিৎসার পাশাপাশি বিমা সংক্রান্ত কাজও যদি দ্রুত সম্পন্ন হয়, তাহলে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষ এবং তাঁদের পরিবারের চাপ অনেকটাই কমবে।
