দিল্লিতে আটক অভিজিৎ দিপকে, মুক্তি পেলেন নেহা বোরা।

 Neha Bora News: দিল্লিতে ‘তিরঙ্গা ওড়াও’ কর্মসূচিকে ঘিরে শুক্রবার উত্তেজনা ছড়ায়। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)-এর নেত্রী নেহা বোরা—দু’জনকেই আটক করে পুলিশ। পরে নেহা মুক্তি পেলেও, অভিজিৎকে কোথায় রাখা হয়েছে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যায় বলে দাবি তাঁর দলের সহকর্মীদের।

দিল্লিতে অভিজিৎ দিপকে আটক ও নেহা বোরা মুক্তি সংক্রান্ত খবরের বাংলা থাম্বনেইল।

সিজেপির অভিযোগ, অভিজিৎকে আটক করার পর তাঁকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য জানানো হয়নি। অন্যদিকে, সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাসও নেহাকে আটকের পর তাঁর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন।

আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসের গ্রেফতারির প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেল ৫টায় দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘তিরঙ্গা ওড়াও’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন অভিজিৎ দিপকে। সোমবার যন্তর মন্তরে গেট টপকে প্রবেশের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর আশুতোষ ও সৌরভ বর্তমানে তিহাড় জেলে রয়েছেন।

এই গ্রেফতারির প্রতিবাদ জানাতেই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগেই পরিস্থিতি বদলে যায়। দিল্লির করোল বাগে অভিজিতের বাড়ির বাইরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। অভিযোগ, বাড়ি থেকে বেরোনোর সময়ই তাঁকে আটক করা হয়।

অভিজিৎ দিপকে দিল্লিতে এনসিপি (শরদ পওয়ার)-এর মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্দের বাড়িতে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে এক পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেন অভিজিৎ।

ভিডিয়োতে তাঁকে পুলিশের কাছে জানতে চাইতে দেখা যায়, তাঁর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, তিনি একা রয়েছেন এবং আইন ভাঙেননি—তাহলে তাঁকে আটক করা হচ্ছে কেন?

অভিজিতের দলের দাবি, বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় তাঁর হাতে ছিল ভারতের জাতীয় পতাকা। এই ঘটনাকে সামনে রেখে সিজেপির তরফে প্রশ্ন তোলা হয়, তেরঙা হাতে নিয়ে হাঁটাও কি অপরাধ? অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের বক্তব্য ছিল, কর্মসূচির জন্য আইন মেনে অনুমতি নেওয়া হয়নি।

পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, অভিজিৎকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির জাফরপুর কালান থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে তাঁকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত প্রতিরোধমূলক আটক করে রাখা হতে পারে বলেও সূত্রের খবর। তবে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে দলের অভিযোগ এবং পুলিশের সূত্রে পাওয়া তথ্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

শুক্রবার ‘তিরঙ্গা ওড়াও’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে দিল্লির মান্ডি হাউস এলাকা থেকে আটক হন আইসা নেত্রী নেহা বোরা। সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস অভিযোগ করেন, নেহাকে পুলিশ কোথায় নিয়ে গিয়েছিল, তা প্রথমে জানা যায়নি। তাঁর দাবি, নেহাকে ফোন ছাড়াই পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়েছিল।

পরে অবশ্য নেহা মুক্তি পান। তবে তাঁকে আটকের পর কোথায় রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এই ঘটনায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়া দুই পরিচিত মুখকে আটকের ঘটনা রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

শুক্রবার বিকেলে কনট প্লেসের কাছে প্রায় দু’হাজার মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

কনট প্লেস ও সেন্ট্রাল পার্ক এলাকার কয়েকটি দোকান বন্ধ রাখা হয়। আন্দোলনকারীদের জমায়েত ঘিরে ব্যবসায়ীদের একাংশ আপত্তি জানান। তাঁদের অভিযোগ, এই ধরনের কর্মসূচির কারণে ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে।

এই বিষয়টি নিয়ে একটি ব্যবসায়ী সংগঠন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। তবে শীর্ষ আদালত এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ আশা প্রকাশ করে যে শুভবুদ্ধির জয় হবে।

পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতায় সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে জমায়েত সরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে বড় ধরনের সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি এবং কর্মসূচিরও ইতি ঘটে।

‘তিরঙ্গা ওড়াও’ কর্মসূচির প্রভাব দিল্লির বাইরেও দেখা যায়। মুম্বইয়ের আজাদ ময়দানেও একই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে পুলিশের অনুমতি থাকলেও প্রায় ৫০ জনের মতো মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন বলে সূত্রের খবর।

এদিকে, ফিরোজশাহ রোড থেকে স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (এসএফআই)-এর কর্মী-সমর্থকেরা শুক্রবার সন্ধ্যায় কনট প্লেসের দিকে মিছিল করেন। সেই মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাসও।

শুক্রবার রাতে নেহা বোরা মুক্তি পেলেও অভিজিৎ দিপকের অবস্থান নিয়ে তাঁর দলের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়। সিজেপির দাবি, দলের প্রধানকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে তাদের কাছে স্পষ্ট তথ্য ছিল না।

একটি কর্মসূচিকে ঘিরে আটক, পুলিশের বক্তব্য, আন্দোলনকারীদের অভিযোগ এবং জাতীয় পতাকা হাতে প্রতিবাদের বিষয়টি নিয়ে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। তবে এই ঘটনায় ঠিক কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং অভিজিৎকে কোথায় রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
×
↑